ব্লগার VS ইউটিউব কোন প্ল্যাটফর্ম আপনার জন্য ?

ব্লগার  VS ইউটিউব কোন প্ল্যাটফর্ম আপনার জন্য ?
হ্যালো বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই আশা করি অনেক ভাল । আজকে আর্টিকেলটি অনেক ইন্টারেস্টিং হতে যাচ্ছে কারণ- আজকে আমি কথা বলব আপনার জন্য কোন প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজ করলে ভালো হবে ব্লগার নাকি ইউটিউব ।এবং থাকছে সবকিছু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা তাই অবশ্যই সম্পূর্ণ আটলান্টিক কন্টিনিউ করুন । আর আপনার প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই এই আর্টিকেলে পেয়ে যাবে যদি না পেয়ে থাকেন তাহলে কমেন্ট করতে ভুলবেন না । চলুন সবার আগে আর্টিকেলটি শুরু করা যাক । 

-ব্লগার এবং ইউটিউব দুটো কিন্তু খুব ভালো প্ল্যাটফর্ম ইনকাম করার জন্য-

ব্লগার 

ব্লগার  VS ইউটিউব কোন প্ল্যাটফর্ম আপনার জন্য ?
ব্লগার একটি গুগোল এর প্ল্যাটফর্ম তবে সর্বপ্রথম পায়রা ল্যাব ১৯৯৯ সালে এটি তৈরি করেছিল এবং 2003 সালে গুগল এর ভবিষ্যৎ চাহিদা কথা চিন্তা করে পায়রা ল্যাব এর থেকে কিনে নেওয়া নামে নেওয়া হয় । এবং এটি 2006 সালে সম্পূর্ণ ফ্রিতে একটি ওয়েবসাইট তৈরীর অথবা কোন রকম সাবসক্রিপশন চার্জ ছাড়া ফ্রি ব্লগিংয়ের প্লাটফর্মে তৈরি হয় ।
এবং এটির নাম সর্বপ্রথম ছিল ব্লগস্পট এখন বর্তমানে নাম চেঞ্জ এরই নাম ব্লগার হয়েছে । 
এখন ব্লগের কিছু সুবিধা বলি উদাহরণস্বরূপঃ আমি যদি আপনাকে বলি ব্লগিংয়ের কথা তাহলে আপনার ব্লগিং শুরু করতে তেমন কিছুই প্রয়োজন নেই । শুধুমাত্র আপনার ইচ্ছা এবং কনটেন্ট থাকতে হবে। আর একটি স্মার্টফোন লেপটপ পিসি যেকোন একটা হলেই হবে এবং একটি ইন্টারনেট কানেকশন। যদি আরো ভালো ভাবে আমাকে বুঝিয়ে বলি তাহলে ব্লগিং করতে আপনার খরচ কিছুই লাগবে না শুধুমাত্র ইন্টারনেট কালেকশন এবং একটি স্মার্টফোন হলেই যথেষ্ট আর কম্পিউটার থাকলে তো আরো ভালো কাজ করতে পারবেন সবগুলো সহজে। ব্লগিং করতে কিন্তু তেমন কোনো কষ্ট নেই। আপনাকে শুধু প্রতিদিন 1 ঘন্টা সময় দিলেই হয় । শুধুমাত্র একটি জায়গায় বসলেন বসে লিখালিখি করলে আর কিছুই না। ব্লগ মূলত এরকম যে, আপনি আপনার কোন টপিক নিয়ে একটি লেখা লিখলেন এবং সেই টপিক অন্য মানুষ পড়বে এবং তাদের মতামত কমেন্ট করে জানাবে আপনি তাদের রিপ্লাই দিবেন এই রকম। কিন্তু আপনার কনটেন্ট এ যেন শক্তি তাকে আপনার লিখার মাঝে কোন পাওয়ার থাকতে হবে।  আরো ভালভাবে বুঝতে আপনার লিখাটা খুব সাজানো-গোছানো হতে হবে। যাতে আপনার ভিজিটরের লিখাটি পড়ে ভালো লাগে এবং সে তার আসল টপিকটি বুঝতে পারে। যে কারণে সে আপনার আর্টিকেলটি পড়ছে অবশ্যই কোন কিছু জানার জন্য আসে আপনার আর্টিকেল পড়ছে। যে টপিকের উপর আর্টিকেল লিখুন না কেন সেটি সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলবেন। এখন ব্লগিং থেকে কিন্তু আপনি অনেক ভাবে ইনকাম করতে পারেন কিন্তু মস্ট পপুলার হয়ে আছে গুগল এডসেন্স গুগল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে আপনার ওয়েব সাইটে এড দিয়ে আপনি ইনকাম করতে পারেন  । এবং এখান থেকে কিন্তু অনেক ভালো পরিমাণ এর একটি ইনকাম হয় । তাছাড়া আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করতে পারেন এফিলিয়েট মার্কেটিং কি তা আশা করি আপনি জানেন না জানলে। আপনি ইউটিউবে সার্চ করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ কিছু এফিলিয়েট মার্কেটিং এর প্ল্যাটফর্মের নাম আপনাকে বলি।যেমনঃ amazon.com gearbest.com আরো ইত্যাদি ।
ছোট্ট করে একটি ধারণা দিয়ে দিয়ে আপনাকে এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে এফিলিয়েট মার্কেটিং হয়েছে আপনি কোন কোম্পানির প্রোডাক্ট সেল করিয়ে দিলেন সেটা থেকে আপনি কিছু কমিশন পাবেন । এছাড়া আপনি স্পনসরশিপ নিতে পারেন । উপরুক্ত এ কিছু উপায় তারা অনেকেই বেশিরভাগ ইনকাম করছেন কিন্তু মস্ট পপুলার হচ্ছে গুগল এডসেন্স ।
ব্লগিং করে কত টাকা ইনকাম করা যায় একটি ধারণা নিতে এখানে ক্লিক করুন । 

ব্লগার সম্পর্কে আমরা মোটামুটি ধারণা পেলাম এখন জানা যাক এটি কোন খরচ আছে কিনা ।

ব্লগারে আপনাকে ওয়েবসাইট তৈরি করতে খরচ না করলেও চলবে ফ্রিতে বিভিন্ন টেমপ্লেট পাওয়া যায় যেগুলো আপনি ব্যবহার করে আপনার একটি কমপ্লিট ওয়েব সাইট তৈরি করতে পারবেন কিন্তু যখন আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে এসইও করতে চাইবেন অথবা গুগল এডসেন্স এর জন্য এপ্লাই করতে চাইবেন তখন আপনার একটি কাস্টম ডোমেইন প্রয়োজন হবে  । এখন ডোমেন সম্পর্কে যদি আপনি না জেনে থাকেন তাহলে আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে আসুন । 
ডোমেইন হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটের নামের শেষে যে অংশটি থাকে । যেমন ঃ www.trickbari.xyz / www.trickbari.com  . লাল অংশ দিয়ে সিলেক্ট করা অংশটুকু কে ডোমেইন বলা হয় । এখন ডমিন আপনাকে টাকা দিয়ে কিনতে হয় । উপরে দেওয়া আর্টিকেলটি পড়লে আশা করি আপনি ডোমিন সম্পর্কে এটি অভিজ্ঞতা বা ধারণা পেয়ে যাবেন ।  

এখন কত টাকা দিয়ে ডোমেইন কিনতে হয় ?

ডোমেইন আপনি 200 টাকা থেকে শুরু করে বারোশো টাকা পর্যন্ত কিনতে পারেন আপনার উপর এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে । উপরোক্ত ডোমেইন এর দাম আমি বাংলাদেশী ডোমেইন এর দাম বলছি যদি আপনি বাংলাদেশে কোন কোম্পানি থেকে কিনেন এরকম প্রাইজ পড়বে একটু কম বেশ হতে পারে । আশা করি ব্লগিং নিয়ে মোটামুটি হলেও ধারণা আপনাদেরকে আমি দিতে পেরেছি ?

ইউটিউব

ব্লগার  VS ইউটিউব কোন প্ল্যাটফর্ম আপনার জন্য ?
ইউটিউব ব্লগার দুটোই কিন্তু গুগলের । এবং দুই প্লাটফর্ম ই আমি মনে করি সব চাইতে বেস্ট যদি আপনি ইনকাম করতে চান অনলাইনে । ইউটিউবে সবচাইতে ভালো যদি সেটি হচ্ছে এখানে খুব তাড়াতাড়ি ভাইরাল হওয়া যায়।
যদি আরো ভালোভাবে বলি মনে করুন আপনি একটি ভিডিও আপলোড করলেন । সেখানে আপনি আপনার একটি ক্লিপ দিছেন ভিডিওতে এখন এই ভিডিওটি যত মানুষের কাছে প্রচার হবে । তত মানুষ আপনাকে দেখবে আপনাকে চিনবে । ইউটিউব একটি প্লাটফর্ম যেখানে আপনি ভিডিও শেয়ার করে আপলোড করে ইনকাম করতে পারবেন । এখানে ও গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে আপনি ইনকাম করতে পারেন । তাছাড়া স্পনসর্শিপ এফিলিয়েট মার্কেটিং আরও বিভিন্ন উপায় আছে ইউটিউবে ইনকাম করার  ।  
এখন ইউটিউব এ ইনকাম করতে হলে যদি আপনি সিরিয়াসলি ইউটিউব নেন তাহলে আপনাকে কিছু টাকা খরচ করতে হবে । কারণ প্রথম থেকে কিন্তু আপনাকে পপুলারিটি বা ভিজিটর বৃদ্ধি করতে হবে । সাবস্ক্রাইবার বৃদ্ধি করতে হবে আর সাবস্ক্রাইভ বৃদ্ধি হবে তখন যখন আপনার ইউটিউব ভিডিও টি কোয়ালিটি ফুল হবে । যদি আরো ভালোভাবে বুঝিয়ে বলতে চাই তাহলে মনে করবেন আপনার একটি ইউটিউব চ্যানেল আছে যেখানে আপনি কনটিনিউ ভিডিও আপলোড করে কিন্তু ভিডিওটি কোয়ালিটি ফুল না । আপনি তখন লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন আপনার ভিডিওতে বেশি হলে পাঁচটা ভিউ আসে ইউটিউব থেকে আর বাকি ভিউ কিন্তু আপনার । আমি কাউকে ছোট করার উদ্দেশ্যে কথাটি বলছি না । বর্তমানে ইউটিউবে অনেক ভিডিও আছে যেগুলোতে বলা হয় ইউটিউবিং করতে হলে জাস্ট একটি মোবাইল ফোন যথেষ্ট শুধু ভিডিও আপলোড করলেই হয় কিন্তু আমি আপনাকে বলবো এটি ভুল । ইউটিউবিং করতে হলে আপনাকে সময় দিতে হবে ভালো কনটেন্ট তৈরি করতে হবে কারো কপি ছাড়া কারো হুবহু কপি করলে তো আর আপনার ইউটিউবিং এর আশা ছেড়ে দিন । 
কেন বললাম খরচ বললাম কারণ ইউটিউবিং করতে হলে অনেক ডাটার প্রয়োজন হয় । যা হয়তো আপনারা জানেন এবং আপনার অনেক সময় ও ব্যয় করতে হবে । যদি আপনার কাছে ভালো ডিভাইস না থাকে তাহলে তো ইউটিউব করা খুবই কষ্টকর হয়ে উঠে যায় আমি নিজের এক্সপ্রেস থেকে বলতে পারি ।কারন ভিডিও এডিটিং ইত্যাদি হাই কোয়ালিটির না করলেও একটি স্টেপ এ নিয়ে যেতে হয় ভিডিওকে যাতে ভিজিটর আপনার ভিডিওটি দেখে ভালো লাগে যদি তাদের ভিডিওটি দেখে খারাপ লাগে তাহলে ভিডিওতে দিবে একটি ডিজলাইক এবং আপনার চ্যানেলে পরবর্তীতে তারা কিন্তু আর আসবে না । এখন নতুন ইউটিউবারদের কিছু ভুল জানতে এখানে ক্লিক করুন । আমি উপরোক্ত কথাগুলো সেইসব ইউটিউবার দের উদ্দেশ্যে বলছি যারা ইউটিউবে এসে ইউটিউব টা কে বস্তি তৈরি করে ফেলছে । ইউটিউব এর পরিবেশটা নষ্ট করে দিচ্ছে, এখানে আপনি যদি খারাপ মনে করেন তাহলে sorry আমার মনে যা ছিল আমি তাই বললাম । 
এখন ইউটিউবে ছাড়া নিজের কন্টেন্ট আপলোড করে কষ্ট করে ইউটিউবে সাকসেস অর্জন করার জন্য আসে তাদেরকে স্বাগতম । যদি আপনি একজন নতুন ইউটিউবর হয়ে থাকে তাহলে আপনার যদি আমার পক্ষ থেকে কোন সাহায্য লাগে তাহলে জানাতে ভুলবেন না । 

ইউটিউব থেকে কত টাকা ইনকাম করতে পারব

বন্ধু তুমি যদি ইউটিউবে এসেই ইনকামের চিন্তা শুরু করে দাও তাহলে তোমার দ্বারা ইউটিউব হবে না তুমি অন্য কিছু দেখতে পারো । হ্যাঁ আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে আপনাকে আপনার ইউটিউব চ্যানেল কে একটি স্টেপে নিয়ে যেতে হবে অথবা একটি পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে যখন আপনার ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা বৃদ্ধি হবে আপনার ভিডিওতে ভিউ হবে তো ইনকাম আপনাকে বুঝতে হবে না ইনক আমি আপনাকে খুঁজবে ।এবং নতুন ইউটিউবারদের জন্য ছোট্ট কিছু ট্রিকস জানতে এখানে ক্লিক করুন । তাছাড়া অনলাইন ইনকাম এর কিছু ট্রিকস জানতে এখানে ক্লিক করুন । ইউটিউব থেকে কিন্তু আপনি অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন যদি আপনি ইউটিউবে সঠিকভাবে কাজ করেন তাই আমি আপনাকে বলে রাখি যদি আপনার নতুন ইউটিউব চ্যানেল হয় তাহলে কন্টিনিউ প্রতিদিন চেষ্টা করুন দুটি করে ভিডিও আপলোড করার । 

আপনার উদ্দেশ্যে ছোট্ট একটি কথা 

সর্ব শেষ কথা একটাই আমি আপনাকে বলব আপনি একসাথে ইউটিউবিং এবং ব্লগিং করুন তাহলে আপনার জন্য সুবিধা হবে । এখন বলতে পারেন কিভাবে ? উদাহরণস্বরূপ আমাকে একটু বুঝিয়ে বলি আপনি ইউটিউবে ভিডিও আপলোড দিবেন তা নিয়ে ব্লগে লিখবেন । মানে আপনি যে টপিকের উপর আর্টিকেল লিখেছেন সেই টপিকের উপর একটি ভিডিও ইউটিউব এ পাবলিশ করুন এবং ভিডিও ডেসক্রিপশন বক্সে আপনার যে আর্টিকেলটি সেটির লিংক দিন তাতে আপনার অনেক লাভ হচ্ছে , এবং প্রতিদিন বেশি হলে দু'ঘণ্টা সময়  কিন্তু এটা করা সম্ভব এবং সম্পূর্ণ দিনের মধ্যে আমি আশা করি দু'ঘণ্টা সময় যে কারোই বের হয় ।  

আশা করি উপরোক্ত বিষয়গুলো আমি আপনাকে বিন্দুমাত্র হলেও বুঝাতে পেরেছি । ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্ট করে জানাবেন । 

-ধন্যবাদ-

0 Comments: